শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তাল ফ্রান্স, পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে তুঙ্গে বিতর্ক

ফ্রান্সে শিক্ষক-সংকট ও অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের অন্তত ৪০টি শহরে প্রায় তিন লক্ষ পড়ুয়া রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। ফ্রান্স সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতির জেরে দেশের প্রায় নয়শোটি স্কুল সাময়িক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করায় জনমানসে ক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। লিল শহরের এক কিশোর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছে, ক্লাসে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকা এবং ক্যান্টিনে দীর্ঘ লাইনের মতো মৌলিক সমস্যার জন্যই তাদের এই আন্দোলন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, আন্দোলন দমাতে রবার বুলেট, স্টান গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ধরনের অস্ত্রের যত্রতত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তুলেছে। গত দুই সপ্তাহে পুলিশ প্রায় সাত হাজার আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।