মদের আসরে টাকার বচসা! কংসাবতীর তীরে বন্ধুকে ইট-লাঠিতে পিটিয়ে খুন, গ্রেফতার অভিযুক্ত

মদের আসরে টাকার বচসা! কংসাবতীর তীরে বন্ধুকে ইট-লাঠিতে পিটিয়ে খুন, গ্রেফতার অভিযুক্ত

মদ্যপানের আসরে তুচ্ছ বচসার জেরে বন্ধুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে ময়নার নৈছনপুর-২ পঞ্চায়েতের নারিকেলদহ গ্রামে কংসাবতী নদীর ধারে এই মর্মান্তিক ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের নাম জিতেন্দ্র সিংহ (৩৪)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বন্ধু চন্দন সামন্তকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে ময়না থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারিকেলদহ গ্রামের খেয়াঘাটের কাছে জিতেন্দ্রর একটি পান-বিড়ির দোকান রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দোকানের জিনিসপত্র কেনার জন্য খেয়াঘাট পার হয়ে নন্দকুমারের মানুয়াখালি বাজারে যান তিনি। সেখানে কাকতালীয়ভাবে বন্ধু চন্দনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। অভিযোগ, রাতে কংসাবতী নদীর ধারে একটি বাঁশের মাচায় বসে দু’জনে একসঙ্গে মদ্যপান করছিলেন। সেই সময়ই কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বচসা বেধে যায়।

পরিবারের দাবি, বচসার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চন্দন ইট এবং মোটা লাঠি দিয়ে জিতেন্দ্রর মাথা ও গলায় উপুর্যুপরি আঘাত করে। এখানেই শেষ নয়, ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। চিৎকার শুনে জিতেন্দ্রর পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জিতেন্দ্রকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

নিহতের পরিবারের লোকজনকে দেখে অভিযুক্ত চন্দন দাবি করে যে, জিতেন্দ্রই তাকে মারধর করেছে এবং তার সাইকেল ফেলে দিয়েছে। এরপর সাইকেল নিয়ে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে জিতেন্দ্রকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রাতেই ময়না থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গড়ময়না হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে জিতেন্দ্রর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত চন্দন সামন্তকে গ্রেফতার করে।

ঘটনা প্রসঙ্গে নিহত জিতেন্দ্রর বোন ববিতা পাল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “চন্দন সামন্ত নামে দাদার এক বন্ধু দাদাকে মদ খাওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তারপরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই ওদের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। চিৎকার শুনে আমরা ছুটে গিয়ে দেখি, চন্দন আমার দাদার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করছে। দাদার মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আর সারা শরীরে ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, জিতেন্দ্রর কাছে চন্দনের কিছু টাকা পাওনা ছিল এবং সেই টাকা নিয়ে কিছুদিন ধরে দু’জনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। তবে এই খুনের নেপথ্যে কেবলই আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *