গির্জায় হামলা ও যাজকদের নিরাপত্তা সংকট, এবার সরাসরি মোহন ভাগবতের দ্বারস্থ বাংলার মিশনারি স্কুলগুলি

গির্জায় হামলা ও যাজকদের নিরাপত্তা সংকট, এবার সরাসরি মোহন ভাগবতের দ্বারস্থ বাংলার মিশনারি স্কুলগুলি

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গির্জা, প্রার্থনা সভা এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক খ্যাতনামা খ্রিস্টান মিশনারি স্কুল। বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে দেখা করে সাক্ষাতের সময় চাইতে চলেছেন তারা।

শনিবার শিলিগুড়ির ডন বসকো স্কুলে আয়োজিত এক যৌথ আলোচনা সভায় এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ্যে আনা হয়। বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্রিশ্চিয়ান স্কুলস-এর যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

শিক্ষার প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত শিক্ষার মানোন্নয়নের উপায়, বিশ্বজুড়ে শিক্ষার নতুন প্রবণতা মূল্যায়ন এবং উত্তরবঙ্গের মিশনারি স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই ছিল এই সভার মূল এজেন্ডা।

বৈঠকে আয়োজকরা ভারতে শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির দুই শতাব্দীরও বেশি দীর্ঘ অবদানের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তারা জানান, এই প্রতিষ্ঠানগুলি সুদীর্ঘকাল ধরে সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত অংশের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।

কেন আরএসএস প্রধানের শরণাপন্ন হতে চাইছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়?

সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে বহুত্ববাদ ও সর্বধর্ম সমন্বয় নিয়ে মোহন ভাগবত যে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন, তাতে আশাবাদী হয়েছিলেন রাজ্যের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সেই আস্থার জায়গাতেই এবার পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুরক্ষার বিষয়ে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন আয়োজকরা।

সাম্প্রতিক সময়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের জালালখালিতে অবস্থিত সেন্ট লুইস ক্যাথলিক চার্চে ভাঙচুরের অভিযোগ এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে সংঘর্ষের ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়া-সহ একাধিক জেলায় খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। উপাসক ও যাজকদের ভয় দেখানো এবং শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা। বারবার জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ ও প্রশাসনের ভূমিকা

বারবার হামলা, ভয় দেখানো এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাবের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে খ্রিস্টান সংগঠনগুলি।

অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আরএসএস-এর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, রাজ্যের সমস্ত খ্রিস্টান স্কুল সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশেই রয়েছে এবং সেগুলির হুমকির মুখে পড়ার কোনও বাস্তব আশঙ্কা নেই। তবে লাগাতার চলা এই উত্তেজনার আবহে মিশনারি স্কুলগুলির এই প্রতিনিধি দলের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *