ভারতের যে ট্রেনে কাটতে হয় না টিকিট, জেনে নিন অদ্ভুত এই রুটের ইতিহাস

ভারতের যে ট্রেনে কাটতে হয় না টিকিট, জেনে নিন অদ্ভুত এই রুটের ইতিহাস

ভারতে ট্রেনে যাতায়াত করতে টিকিট কাটা বাধ্যতামূলক এবং টিকিট না থাকলে জরিমানার নিয়ম সর্বজনবিদিত। তবে এই দেশেরই এক অনন্য ট্রেনের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম সম্পূর্ণ প্রযোজ্য নয়, যেখানে নিখরচায় ভ্রমণ করা যায়। পাঞ্জাবের নাঙ্গাল থেকে হিমাচল প্রদেশের ভাখরা পর্যন্ত শিবালিক পর্বত ও সতলুজ নদীর অপরূপ সৌন্দর্য পেরিয়ে চলা ১৩ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে কোনো ভাড়া নেওয়া হয় না। মূলত ১৯৪৮ সালে ভাখরা-নাঙ্গাল বাঁধ নির্মাণের সময় কর্মী, প্রকৌশলী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনের সুবিধার্থে এটি চালু করা হয়েছিল। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহজ যাতায়াত ও দুই রাজ্যের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সেবাটি অবিরাম চালু রাখা হয়।

ভারতীয় রেলের পরিবর্তে ভাকরা বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ড সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশেষ ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবাটি পরিচালনা করে। ২০১১ সালে টিকিট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হলেও ঐতিহ্য রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। ১৯২৩ সালে করাচীতে নির্মিত কাঠের তৈরি কামরা সমৃদ্ধ এই ট্রেনটি পাকিস্তান ও ভারতের ইতিহাসের এক চমৎকার স্মৃতি বহন করে আসছে। অতীতে কয়লাচালিত ইঞ্জিনে চালু হলেও বর্তমানে ডিজেল ইঞ্জিনের সাহায্যে পরিচালিত এই ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মোট ছয়টি ছোট স্টেশনে বিরতি দেয়। এলাকার বাসিন্দাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের এই সুযোগ একই সাথে এক অনন্য পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *