‘দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন মোদী!’—দিল্লিতে মুক্তির পর সোজাসুজি বিস্ফোরক CJP নেতৃত্ব

নয়া দিল্লি:
শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানাল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মোদী সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমাতে পুলিশ যে ভূমিকা নিয়েছে, তা একসময়ের জরুরি অবস্থার নির্মমতাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, বর্তমান সরকারই দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছানো মাত্রই সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে আটক করে পুলিশ। রবিবার সকালে তাঁদের সতর্কতামূলক গ্রেফতার দেখানো হলেও, পরে নিম্ন আদালত থেকে তাঁরা জামিন পান। আদালত থেকে ছাড়া পেয়েই দুপুরে সৌরভ ও আশুতোষ সাংবাদিক বৈঠক করেন। পারিবারিক জরুরি দরকারে মুম্বই যাওয়ায় অপর নেতা অভিজিৎ দীপকে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনিও আন্দোলন জারি রাখার স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, দিল্লি পুলিশ জোর করে বিমানে উঠে তাঁদের একপ্রকার ‘অপহরণ’ করে। কোনো সরকারি নথি বা নোটিস না দিয়েই তাঁদের আলাদা আলাদা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমনকি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। নেতাদের আশঙ্কা, তাঁদের ফোনে তথ্য চুরি, হ্যাকিং বা ভুয়া তথ্য ঢুকিয়ে পরবর্তীকালে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হতে পারে।
সিজেপি নেতাদের দাবি, বিতর্কিত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করতেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করেছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে সৌরভ প্রশ্ন তোলেন, “নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ কেন জ্ঞানেশকে এত বাঁচাতে চাইছেন?” আদালত আগামী এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের জামিন দিলেও সিজেপির উল্টো অভিযোগ—প্রকৃত শান্তিভঙ্গ করছেন মোদী, শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার নিজেই।
বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে পুলিশের প্রবেশের ঘটনা তুলে ধরে সৌরভ বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, শিখ সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার চালিয়ে কোনো সরকারই টিকতে পারেনি। এই সরকারও থাকবে না। পুলিশ জুতো পায়ে, খালি মাথায় গুরুদ্বারে ঢুকে যেভাবে মানুষকে মারধর করে টেনে বার করেছে, তার খেসারত সরকারকে দিতেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “সমগ্র দেশে এক আপাত-জরুরি অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আমাদের সহযোগীদের ওপর হেফাজতে নির্যাতন চালানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন এখন কোথায়? রাষ্ট্র তার নিজস্ব নাগরিক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানাচ্ছি।”
সাংবাদিক বৈঠকে অন্য নেতা আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশের অমানবিকতার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি জানান, অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর মুহূর্তেও পুলিশ ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়ে নাটক তৈরি করার চেষ্টা করে। আশুতোষের কথায়, “রাজধানীর পুলিশের এই আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই পুলিশি অভিযানের জন্য মোদী-শাহের অনুশোচনা হওয়া উচিত। আমাদের এই লড়াই সবে শুরু, আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।”