‘কোনো বন্ডে সই করিনি, মোদী-শাহকে ভয় পাই না!’ জেল থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিজিৎ

নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশের প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারির (প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট) পর জামিন পেতেই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় মনোভাব ব্যক্ত করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আর কোনো রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেবেন না— এমন কোনো বন্ডে তিনি সই করেননি। খুব শীঘ্রই তাঁরা ফের বড়সড় আন্দোলনে নামতে চলেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকেই অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাশ এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। রবিবার তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হলে আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর নাগপুরে পৌঁছালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিজিৎ।
সাংবাদিকদের সামনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেন, “আমরা আন্দোলন করব না— এমন কোনো মুচলেকায় সই করিনি। আমরা আবারও রাজপথে নামব। মোদী বা শাহকে আমরা বিন্দুমাত্র ভয় পাই না। আমাকে একশোবার জেলে পুরলেও এই স্বৈরতন্ত্রের সামনে মাথা নত করব না। এই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েই আমরা থামব।” পরবর্তীতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও তিনি একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।
এদিকে, এই আটক পর্বের মাঝেই অভিজিতের পরিবারে নেমে আসে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই মারা যান তাঁর ঠাকুমা। অভিজিতের পরিবারের মারাত্মক অভিযোগ, আটক থাকার কারণে তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং ঠাকুমার মৃত্যুর খবরও তাঁর কাছে পৌঁছাতে দেয়নি পুলিশ। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই অভিজিৎকে পরিবারের এই শোকসংবাদ জানানো হয়েছিল এবং তিনি চাইলে বাড়ি যেতে পারতেন। তবে দিল্লি পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যাচার’ ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে অভিজিতের পরিবার।
বর্তমানে ঠাকুমার শেষকৃত্য সম্পাদন করতে বাড়ি গেলেও, দিল্লিতে ফিরে এসে ফের সুবিশাল আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন সিজেপি প্রধান।