‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে আজ দিল্লিতে INDIA জোটের মেগা মিছিল, CJI-এর হস্তক্ষেপে অনড় মমতা-রাহুলরা!

ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আজ সোমবার দিল্লির রাজপথে ঝড় তুলতে চলেছে বিরোধী INDIA জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিচ্ছেন বিরোধীরা। শুধু তাই নয়, এই পুরো বিষয়ে প্রধান বিচারপতির (CJI) সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী শিবিরের।
গত শনিবার কংগ্রেসের তরফে এই মেগা কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর রাজপথে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে পুলিশের আটকের ঘটনার পরেই এই কঠোর অবস্থান নেয় বিরোধী জোট। এমনকি, আটক হওয়া আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই ঘটনার জেরে নিজের পূর্বনির্ধারিত কলকাতা ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করে সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, শুক্রবারই এই আন্দোলন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। মোদি-শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ এনে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার্থে সোমবারের এই মিছিলে বিরোধী সাংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে দলে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সাফ বার্তা, “জ্ঞানেশকে যেতেই হবে, আমরা এক পা-ও পিছিয়ে আসব না।”
এর আগে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে INDIA জোটের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে এসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার ত্রুটি ও উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবে বিরোধীরা। সেই মতো আজ প্রবীণ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার জোরালো চেষ্টা চালাবে।
বিরোধী শিবিরের মূল দাবিগুলি হলো:
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ।
- ইভিএম (EVM) বাদ দিয়ে পুনরায় ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানো।
- নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন আইনি দায়মুক্তি দেওয়া ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইনটি বাতিল করা।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) অবিলম্বে বন্ধ করা।
- ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- গত দুবছরে যে সমস্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে, সেগুলি বাতিল করা।
এদিকে, দিল্লিতে অবস্থানরত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধীর বিশেষ অনুরোধেই তিনি সোমবারের সুপ্রিম কোর্টমুখী কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। তাঁকে ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের ‘অপহরণ’ করে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। গণতন্ত্র বাঁচানোর এই লড়াইয়ে কাউকে এক ইঞ্চিও ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মমতা।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবিতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আজ চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। আজকের মেগা কর্মসূচি থেকে বিরোধী জোটের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।