দুর্গাপুজোয় বুকস্টল করতে না পারলে কালীপুজোয় করুন! সিপিএমকে হাইকোর্টের পরামর্শ

দুর্গাপুজোয় বুকস্টল করতে না পারলে কালীপুজোয় করুন! সিপিএমকে হাইকোর্টের পরামর্শ

উৎসবের মরশুমে বইয়ের স্টল বসানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। বনগাঁ থেকে শুরু করে নৈহাটি—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএমের দলীয় বইয়ের স্টল স্থাপন নিয়ে বিরোধ ও সংঘাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার কারণে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে বাম শিবির।

সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, প্রতিবারের মতো এ বছরও যশোর রোডের পাশে বইয়ের স্টল দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কাঠ ও বাঁশ জোগাড় করে কাজ শুরু হতেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা তা সরিয়ে নিজেদের স্টল তৈরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাম কর্মীরা আক্রান্ত হন এবং মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডেও স্টল কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সিপিএমের অভিযোগ, তাদের দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টা করে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা এবং বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয়। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি তুলেছে বিজেপিও।

আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে মামলাটি পৌঁছায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তবে জরুরি ভিত্তিতে মামলা শোনার বিষয়ে বিচারপতি বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। সিপিএমের আইনজীবী মামলা ছাড়ার কথা বললে বিচারপতি জানান যে আগামীকাল মামলাটি ছেড়ে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এই গোটা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, উৎসবের আমেজে এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক রাজ্যকে নতুন আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। উৎসবের মরশুমে বইয়ের স্টল নিয়ে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *