‘বিচারাধীন বিষয়ে বৈঠক নয়!’ রাহুল-খাড়গেকে সপাটে জবাব, সিজেআই-এর সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা বিরোধীদের

‘বিচারাধীন বিষয়ে বৈঠক নয়!’ রাহুল-খাড়গেকে সপাটে জবাব, সিজেআই-এর সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা বিরোধীদের

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার তোড়জোড় করছিলেন বিরোধী নেতারা। তবে সেই উদ্যোগে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কড়া বার্তা দিয়ে তাঁদের সাক্ষাতের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধী রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করা সুপ্রতিষ্ঠিত বিচারিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

📩 চিঠিতে প্রধান বিচারপতির কড়া প্রতিক্রিয়া

গত ১০ অক্টোবর রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠিয়ে ১২ অক্টোবর বিকেলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল—মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন বাতিলের মতো একাধিক ইস্যু নিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রধান বিচারপতির হাতে তুলে দেওয়া।

এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাফ জানিয়ে দেন, উল্লিখিত বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এই অবস্থায় বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলে তা ‘ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি’ (Separation of Powers)-র সঙ্গে সংঘাত তৈরি করবে—যা ভারতীয় সংবিধানের মূল কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

⚖️ আদালতের পরামর্শ ও সাংবিধানিক পথ

লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জানান, বিরোধী নেতারা যেসমস্ত প্রশাসনিক বা বিচার-বহির্ভূত অভিযোগ তুলে ধরেছেন, প্রশাসনিক স্তরে সেগুলির সমাধান করার কোনো একচ্ছত্র ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই।

তবে তিনি এও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচারবিভাগ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই কোনো প্রশাসনিক স্মারকলিপি না দিয়ে, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 32) আওতায় সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায় সরাসরি বা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংক্ষেপে, দেশের আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে সাংবিধানিক পথে হাঁটারই বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *