গুরুর কুকীর্তির প্রতিবাদ করায় মর্মান্তিক পরিণতি! কোন্নগরে সালিশি সভায় শিষ্যের মাথায় ইট মেরে খুন, গ্রেফতার ১

হুগলির কোন্নগরের কানাইপুর গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান্ট লাগোয়া কলোনিতে এক স্বঘোষিত গুরুকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া তুলকালাম কাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। এক শিষ্যার বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বচসা এবং হাতাহাতির জেরে এক শিষ্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ মূল অভিযুক্ত গণেশ হালদারকে গ্রেফতার করেছে এবং স্বঘোষিত গুরুদেব গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী সহ দু’জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কানাইপুর কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তার করে আসছিল গোপাল কৃষ্ণ গোস্বামী নামে এক স্বঘোষিত গুরু। সম্প্রতি ওই গুরুর বিরুদ্ধে এক শিষ্যার শ্লীলতাহানি ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা এবং শিষ্যদের একাঞ্চল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গুরুর পক্ষে এবং বিপক্ষে থাকা লোকজনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা ও বিতর্ক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বিবাদ মেটাতে এগিয়ে এসেছিলেন মৃত সুখচাঁদ সমাদ্দার। পরিবারের দাবি, রাতে হঠাৎ ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। গুরুর আটক হওয়ার খবর শুনে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে যান তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে তাঁকে চরম মূল্য দিতে হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বচসা ও হাতাহাতির সময় যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন পিছন থেকে কেউ তাঁর মাথায় সজোরে ইট মেরে পালিয়ে যায়। ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুখচাঁদ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এলাকায় চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার সকালে খুনে অভিযুক্ত গণেশের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত জনতা। এমনকি তাঁর একটি বাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরপাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং ধৃতদের জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।