বয়স বাড়ার সঙ্গে মা-বাবার দূরত্ব বৃদ্ধি, জানুন রক্তসম্পর্ক থেকেও দূরে সরার আসল রহস্য

বয়স বাড়ার সঙ্গে মা-বাবার দূরত্ব বৃদ্ধি, জানুন রক্তসম্পর্ক থেকেও দূরে সরার আসল রহস্য

ক্রমবর্ধমান বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা পুরোপুরি বিচ্ছিন্নতায় রূপ নেওয়া বর্তমানে এক বড় সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। একসময়ে চরম দাম্পত্য কলহের মধ্যেও সন্তানের প্রথম আশ্রয় হতেন অভিভাবকরা, তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় বদলে গেছে সম্পর্কের সমীকরণ। বর্তমান যুগে বিয়ের পর আলাদা থাকা কিংবা মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিনের মানসিক সংঘাত, মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, অবহেলা এবং ব্যক্তিত্বের অমিলের দরুন বহু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এখন সম্পর্কের চেয়ে নিজেদের মানসিক শান্তিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়া সোশাল মিডিয়ার প্রভাব ও নতুন জীবনধারার কারণে মানুষ এখন আর শুধুমাত্র রক্তের টানের ওপর ভিত্তি করে কোনো বিষাক্ত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে রাজি নন।

আমেরিকার ‘জার্নাল অফ ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি’-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৬ শতাংশ সন্তান তাঁদের বাবার সঙ্গে এবং ৬ শতাংশ মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূরত্বের পেছনে কোনো একক কারণ নেই এবং এটি সব সময় স্থায়ীও হয় না। অনেকেই পরবর্তীতে যোগাযোগের মাধ্যম ও আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে কিংবা নিজেদের সীমানা নির্ধারণ করে এই জটিল সম্পর্কের ইতিবাচক উন্নতি ঘটিয়েছেন। এমনকি কিছুদিন দূরত্ব বজায় রাখার পর বহু ক্ষেত্রে সম্পর্ক আগের চেয়েও বেশি শক্তপোক্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্করা তাঁদের নিজেদের মতো করে পরিবারের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছেন, যেখানে আত্মসম্মান ও মানসিক সুস্থতাই শেষ কথা বলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *