চোরবাগানের বিষাদ ছায়া! বিজয়ার উৎসবে ইতি টেনে নেত্রীর কড়া বার্তা, নেপথ্যে কি শুধু বিপর্যয় নাকি অন্য কিছু?

সপ্তমীতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের জেরে এবছর কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হচ্ছে না চেনা পরিচিত বিজয়ার মেগা সেলিব্রেশন। দলীয় সূত্রে খবর, বিজয়া দশমীতে এবার মিষ্টিমুখ বা হইচই নিষিদ্ধ করেছেন নেত্রী। কর্মীদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, শুভেচ্ছা বিনিময়টুকুই সারতে হবে, কোনো বড় জমায়েত বা উৎসব করা যাবে না। সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতার পুজোয় এমন বড় বিপর্যয় দেখেনি রাজ্য। সেই বিষাদের ছায়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলের কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
বিজয়া উৎসব বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসক শিবিরের যখন দাবি, চোরবাগানের শোক ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করেই এই সংযম, তখন বিরোধীরা একে সরাসরি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির খোঁচা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং মাঠে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার জন্যই দলনেত্রীকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিগত বছরগুলিতে বিজয়ার পর জেলা থেকে পাড়ায় পাড়ায় যে জনসংযোগ ও মিষ্টিমুখের জোয়ার দেখা যেত, তা থেকে এবার সরে দাঁড়াল তৃণমূল। সবমিলিয়ে, চোরবাগানের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দোলাচলে এবছরের বিজয়া দশমী সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিল রাজনৈতিক মহলে।