খালি পায়ে শাড়ি পরে দৌড়ে ইতিহাস গড়েও শেষরক্ষা হল না, হোঁচট খেলেন দুই সন্তানের মা

শাড়ি পরে খালি পায়ে দুর্দান্ত গতিতে দৌড় শেষ করে রাতারাতি ইন্টারনেটে সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের স্বামীহারা গৃহবধূ কবিতা। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর দুই সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ির দায়িত্ব একা কাঁধে নিয়ে হোমগার্ডের চাকরির পরীক্ষায় নেমেছিলেন তিনি। কোনও পেশাদার প্রশিক্ষণ বা দৌড়ের পোশাক ছাড়াই, পরনের মলিন শাড়ি আর খালি পায়ে ১৬০০ মিটারের দৌড় ১০ মিনিটের পরিবর্তে মাত্র ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে শেষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর এই অদম্য জেদ এবং সংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়েছিল গোটা দেশ, যা তাঁকে এনে দিয়েছিল অনন্য পরিচিতি।
তবে দৌড়ের গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী ধাপ তথা হাইজাম্পের পরীক্ষায় এসে সব ওলটপালট হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী তিনবার সুযোগ পেলেও নির্ধারিত উচ্চতা পার করতে পারেননি তিনি, যার ফলে প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। অভাবের সংসারে একটু স্বস্তি ফেরাতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যে স্বপ্ন কবিতা দেখেছিলেন, তা এই ধাপের বাধায় আপাতত থমকে গেল। তাঁর এই ব্যর্থতা ও চাকরি হাতছাড়া হওয়ার খবরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন সমাজের সাধারণ মানুষ, কারণ এই সুযোগটি তাঁর পরিবারের জন্য কতটা জরুরি ছিল তা বলাই বাহুল্য।