ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন! ‘বেসুরো’ হতেই কাজলের নিরাপত্তা প্রত্যাহার, হামিদুলের ফাইল খোলার নির্দেশ শুভেন্দুর

বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে বিদ্রোহী শিবির তৈরি হয়েছিল, সেখানে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি ঋতব্রত শিবিরে থাকা দুই বিধায়ক— বীরভূমের হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান— প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এই ‘বেসুরো’ হওয়ার পরই রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাজল শেখের নিরাপত্তা প্রত্যাহার ও বাড়িতে তল্লাশি: দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ নিরাপত্তা পাওয়া কাজল শেখ সম্প্রতি বিধানসভায় মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছিলেন। কাজল শেখের দাবি, এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরই তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশ তাঁর ভাইপো ফ্লিপ শেখ এবং লয়েড শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার করে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিযোগ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করার কারণেই কাজলকে নিশানা করা হয়েছে।
হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে পুরনো মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ: অন্যদিকে, চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানও সম্প্রতি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী বলে ঘোষণা করেছেন। এর পরপরই রায়গঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, হামিদুলের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো সমস্ত মামলার ফাইল রি-ওপেন করতে হবে এবং জমি লুটের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে।
রাজনৈতিক তরজা ও প্রতিক্রিয়া:
- তৃণমূলের অভিযোগ: কুণাল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ভয় পেয়েই বিজেপি এবং প্রশাসন এ ধরনের পদক্ষেপ করছে। চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর প্রসঙ্গ তুলেও কটাক্ষ করেছেন অভিষেক।
- বিজেপির জবাব: রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কোনও সম্পর্ক নেই। যাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের কর্তব্য।
- ঋতব্রত শিবিরের প্রতিক্রিয়া: ঋতব্রত শিবিরের নেতা আখরুজ্জামান দাবি করেছেন যে হামিদুল এখনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন এবং কাজল শেখকে নিরাপত্তার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য স্বীকার এবং প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।