২৭ বিধায়ক কার পক্ষে? কালীঘাট শিবিরের বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি!

তৃণমূলের অভ্যন্তরে ক্ষমতা ও প্রতীক দখলের লড়াই চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত শুনানির আগে কালীঘাটপন্থী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের মধ্যে টানাপোড়েন তীব্র হয়ে উঠেছে। বিধানসভার দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক বিধায়কদের ওপর ভয়ংকর পুলিশি অত্যাচার চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ বিধায়কদের পরিবারের সদস্যদের আটকে রেখে ঋতব্রতের তালিকায় সই করতে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, উৎসবের মরশুমে অনেকেই শিবির বদল করায় বর্তমানে কালীঘাট শিবিরে বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে ২৭-এ পৌঁছেছে, যা তৃণমূলের মোট জয়ী বিধায়কদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
তবে শোভনদেবের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম নেতা তথা বিধানসভার ডেপুটি লিডার সন্দীপন সাহা। তাঁর মতে, সংখ্যাটা দুই-একজন বাড়লেও কোনোভাবেই ২৭ হতে পারে না। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই অনেক বিধায়কের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যেমন, হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী মানলেও ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে গণ্য করছেন। আবার চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আফরিন আজাদ ও মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। সব মিলিয়ে প্রতীক ও দলীয় আধিপত্য রক্ষার লড়াইয়ে শাসকদলের ভেতরের সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে।