স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভাবনা

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণের দাবি: তদন্তভার সিবিআই বা অন্য কোনো সংস্থার হাতে তুলে দিতে চায় রাজ্য
নিজস্ব প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তভার আর্থিক অপরাধ দমনে দক্ষ কোনো কেন্দ্রীয় বা স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত দশ বছরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের তদন্ত করা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষে সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সময় চেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে দুর্নীতির যাবতীয় নথি এবং প্রস্তুতকৃত ফাইল তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, এই দুর্নীতি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য দফতরের নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে নার্সিংহোম, চিকিৎসক, এমনকি উপভোক্তার পরিবারের সদস্যরাও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।” তদন্তে উঠে এসেছে যে, মৃত ব্যক্তির নামে থাকা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে মৃত্যুর তিন-চার বছর পরেও একাধিকবার ভুয়ো বিল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তির অস্ত্রোপচারের ভুয়ো বিলও স্বাস্থ্য দফতরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
দুর্নীতির এই মূলে টিপিএ (TPA) বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্বাস্থ্যভবন। মন্ত্রীর অভিযোগ, যে বিলগুলো যাচাই করার দায়িত্ব ছিল টিপিএ সংস্থাগুলোর, তারাই বরং এই ধরনের জালিয়াতিতে সরাসরি সহায়তা করেছে। এ ছাড়াও ‘নিশ্চয় যান’ প্রকল্পে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ক্ষেত্রেও ভুয়ো নথির মাধ্যমে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের স্বাস্থ্য প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, “ভুয়ো বিল ও উপভোক্তা নিয়ে আর ধৈর্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এই ধরপাকড় চালানো কি স্বাস্থ্য দফতরের কাজ?”
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “অনিয়ম হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে তদন্তের নামে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।”