AQI ৪০০ পার! মর্নিং ওয়াক কি এখন মৃত্যুফাঁদ?

বিষাক্ত বাতাসে মর্নিং ওয়াক: স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সতর্কবার্তা
বাতাসের গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) ৪০০-এর গণ্ডি অতিক্রম করলে বাইরে মর্নিং ওয়াক বা জগিং করা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজীব গান্ধী হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অজিত কুমারের মতে, শরীরচর্চার সময় আমাদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ও গভীর শ্বাস নিতে হয়। ফলে বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণা ও ক্ষতিকারক গ্যাস সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মাস্ক কি দূষণ থেকে সুরক্ষা দেয়?
অনেকের ধারণা, মাস্ক ব্যবহার করলেই দূষিত বাতাসে হাঁটা নিরাপদ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, N95 রেসপিরেটর মাস্ক পিএম ২.৫ (PM 2.5) কণা প্রতিরোধে কিছুটা সহায়ক হলেও তা শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। উল্টো, মাস্ক পরে দ্রুত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করলে অনেকের তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভূত হতে পারে। বাতাসের মান ২০০-এর বেশি থাকলে মাস্কের ওপর ভরসা না করে সরাসরি দূষণের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
নিরাপদ থাকতে করণীয়
দূষণের প্রকোপ থেকে বাঁচতে খোলা আকাশের নিচে শরীরচর্চার পরিবর্তে ইনডোর বা ঘরের ভেতর ব্যায়াম করা বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প। ট্রেডমিলের ব্যবহার বা ঘরের মধ্যে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ঘরের জানালা বন্ধ রাখা, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা এবং ঘরকে ধূমপানমুক্ত রাখলে বাতাসের মান উন্নত রাখা সম্ভব। আবহাওয়া খারাপ থাকলে হঠাৎ ব্যায়ামের তীব্রতা না বাড়িয়ে বরং সতর্ক থাকা জরুরি।
এক ঝলকে
- একিউআই ৪০০-এর বেশি হলে বাইরে হাঁটা ফুসফুসের মারাত্বক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ব্যায়ামের সময় গভীর শ্বাস নেওয়ার ফলে শরীরের ভেতর অধিক পরিমাণে বিষাক্ত কণা প্রবেশ করে।
- বাতাসের মান ২০০-এর উপরে থাকলে মাস্ক পরে বাইরে বের হওয়া পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
- দূষণের সময় ট্রেডমিল বা ইনডোর ব্যায়াম করাই শরীরচর্চার সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম।