উত্তরবঙ্গের জন্য মেগা মাস্টারপ্ল্যান, চা শ্রমিকদের ভাগ্য ফেরাতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নতুন রূপরেখা: চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ও স্বাস্থ্যসেবায় জোর
উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক মেগা প্রশাসনিক বৈঠকে চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরসুমে চা বাগানগুলোর সংকট নিরসনে শ্রমিক পরিবারগুলোর রেশনের চাল ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৫০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি শ্রমিক পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই পুরো বিষয়টির তদারকি ও কাজের অগ্রগতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের ওপর।
বন্ধ বাগান সচল ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলো দ্রুত সচল করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা হাজারো শ্রমিকের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত অভাবী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জব কার্ড প্রদানের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ৯ ডিসেম্বর সম্ভাব্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
ভাষা বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা
চা বাগান ও স্বাস্থ্য খাতের বাইরেও উত্তরের জনজীবনে গুরুত্ব পাওয়া কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটেশন জমা দেন। সব মিলিয়ে, চা শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের একটি নতুন রূপরেখা প্রদান করল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এক ঝলকে
- চা শ্রমিকদের মাসিক রেশনের চাল ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার ঘোষণা।
- শ্রমিক পরিবারগুলোকে ৫ হাজার টাকার বিশেষ এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান।
- বন্ধ চা বাগানগুলো দ্রুত সচল করতে বিশেষ উদ্যোগ ও জব কার্ড প্রদানের নির্দেশ।
- আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রস্তুতি।