ব্রেকআপের আগেই নতুন সঙ্গী! ‘মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং’-এর ভয়ংকর ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো?

ব্রেকআপের আগেই নতুন সঙ্গী! ‘মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং’-এর ভয়ংকর ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো?

 

সম্পর্কে ‘মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং’: সঙ্গী আপনাকে কি ‘ব্যাকআপ অপশন’ হিসেবে ব্যবহার করছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সময়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং’ (Monkey Branching) একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনোবিদদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় একজন সঙ্গী বর্তমান সম্পর্কে থাকাকালীনই গোপনে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। নতুন সঙ্গী যখন নিশ্চিত হয়ে যায় যে তারা একে অপরের জন্য ‘নিরাপদ’ আশ্রয়, তখনই আগের সম্পর্কটি ভেঙে দেওয়া হয়। এতে প্রতারক সঙ্গীকে কখনোই একা থাকতে হয় না, অথচ অন্যজন জানতেই পারেন না যে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কেবল একটি ‘ব্যাকআপ অপশন’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন।

কেন মানুষ এমন আচরণ করেন?
বিশেষজ্ঞরা এই আচরণের নেপথ্যে তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. একাকীত্বের ভয়: অনেকে একা থাকার ভয়ে নিরাপত্তার খাতিরে বিকল্প সঙ্গী খুঁজে রাখেন।
২. আত্মবিশ্বাসের অভাব: ব্রেকআপের পর নতুন কাউকে খুঁজে না পাওয়ার বা কেউ তাদের পছন্দ না করার হীনম্মন্যতায় ভোগেন অনেকে।
৩. অসততা: বর্তমান সম্পর্কে সুখী না হওয়া সত্ত্বেও সাহসী সিদ্ধান্তের অভাবে সঙ্গীকে না ছাড়ার প্রবণতা।

সতর্ক হওয়ার উপায়: ৫টি লাল সংকেত
আপনার সঙ্গী যদি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো প্রদর্শন করেন, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি:

  • ফোন নিয়ে গোপনীয়তা: সঙ্গীর ফোনে হঠাৎ অতিরিক্ত সতর্কতা বা পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা।
  • ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যাওয়া।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত বা নতুন কারো সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত মেলামেশা।
  • ঘন ঘন ব্রেকআপের হুমকি: ছোটখাটো বিষয়ে বিচ্ছেদের কথা বলা, অথচ বাস্তবে ছেড়ে না যাওয়া।
  • সময় না দেওয়া: আপনাকে সময় কম দিয়ে সবসময় ‘ব্যস্ত’ থাকার অজুহাত দেখানো।

প্রতিকার কী?
মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা। যদি সঙ্গী মাঙ্কি ব্রাঞ্চিং করছে বলে মনে হয়, তবে সরাসরি খোলামেলা আলোচনা করুন। যদি তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত থাকেন, তবে তাকে সময় দিন। কিন্তু কোনোভাবেই প্রতারণা মেনে নেওয়া উচিত নয়। মনে রাখা প্রয়োজন, যিনি সম্পর্কের গুরুত্ব না বুঝে অন্য ‘ডাল’ খোঁজার চেষ্টা করেন, তিনি প্রকৃত অর্থে আপনাকে সম্মান বা ভালোবাসা দিচ্ছেন না। সম্পর্কের সুস্থতা বজায় রাখতে নিজের আত্মমর্যাদাকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *