সরকারি চত্বরে মসজিদ থাকা চলবে না, শতাব্দীপ্রাচীন কাঠামো সরাতে মরিয়া কেন্দ্র!

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প: দিল্লির প্রাচীন কাদিমি মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে আইনি লড়াই
নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের महत्त्वाকাঙ্ক্ষী সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে ‘কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট’-এর ৪ ও ৫ নম্বর ভবন নির্মাণের জন্য দিল্লির একটি প্রাচীন মসজিদ অপসারণের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। মসজিদটি সরানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি।
আবেদনকারী কমিটির আইনজীবী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ আদালতে সওয়াল করেন, ‘কাদিমি মসজিদ’ নামক এই ধর্মীয় কাঠামোটি শতবর্ষের বেশি পুরনো। স্বাধীনতার পূর্বে কৃষি ভবন নির্মাণের অনেক আগে থেকেই এর অস্তিত্ব ছিল। ১৯৪৫ সালের সরকারি নথিতেও মসজিদটির উল্লেখ রয়েছে এবং ১৯৭০ সালে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড এটিকে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আবেদনকারীদের দাবি, কৃষি ভবন ও শাস্ত্রী ভবনে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ দিন ধরে এখানে নামাজ আদায় করেন। ফলে সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং কাঠামোটি ভেঙে ফেলার হাত থেকে সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছে কমিটি।
অন্যদিকে, এই অপসারণের সপক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (L&DO) তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কেন্দ্রের দাবি, ১৯৪০ সালের ৮ নভেম্বরের একটি চুক্তি অনুযায়ী তৎকালীন প্রশাসন ও জামা মসজিদের পরিচালন কমিটির মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, জমিটি শুধুমাত্র মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কোনো মালিকানা বা স্থায়ী অধিকার হস্তান্তর করা হয়নি। এছাড়া সরকারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সংস্কার বা নতুন কাঠামো নির্মাণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
কেন্দ্রের যুক্তি, জমির আসল মালিকানা সরকারের হাতেই রয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে ও প্রশাসনিক প্রকল্পের প্রয়োজনে মসজিদটি সরানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত।
উভয় পক্ষের আইনি ও ঐতিহাসিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে বর্তমানে মামলাটি দিল্লি হাইকোর্টের বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।