পিছিয়ে যেতে পারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক! চরম অনিশ্চয়তায় লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী

মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা: সেন্সাস ও সরকারি কাজের চাপে ক্ষুব্ধ শিক্ষক মহল
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরুর প্রস্তাব শিক্ষাদপ্তরে পাঠালেও, সরকারি বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের ব্যস্ততা ও আসন্ন জনগণনার (সেন্সাস) কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক সংগঠনগুলো। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার বিকাশ ভবনে বৈঠকে বসবেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। সেই বৈঠকের পরই পরীক্ষার দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশের দাবি, জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার জন্য মাধ্যমিকের মতো পাবলিক পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা কাম্য নয়। এসটিইএ-র সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দাসের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “পরীক্ষার দিন অপরিবর্তিত রেখে সেন্সাসের সময় বদলানো হোক। সূচি পরিবর্তন হলে পরীক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও স্বাভাবিক ছন্দে বিরূপ প্রভাব পড়বে।”
এদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। জয়েন্ট বোর্ডের এক আধিকারিক জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সঙ্গে জয়েন্ট বা নিট-এর মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার সরাসরি যোগ রয়েছে। এই পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, “অন্য রাজ্যে পড়তে যাওয়া পড়ুয়াদের কথা ভেবে ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তির জয়েন্ট প্রবেশিকা পরীক্ষা চাইলেই পেছানো সম্ভব নয়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যথাসময়ে হওয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ জয়েন্টের ফল প্রকাশ ও ভর্তির প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভরশীল।”
উল্লেখ্য, উচ্চ মাধ্যমিকের ফাইনাল সেমেস্টারের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। মাধ্যমিকের প্রস্তাবিত সূচি সামনে আসার পরই উচ্চ মাধ্যমিক এবং অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষার দিনক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের পর গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।