পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর হুঙ্কার, মোদীই একমাত্র ব্যতিক্রম!

বংশপরম্পরা বনাম মেধা: রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্র নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে ফের আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কংগ্রেসের জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর মতো প্রভাবশালী পরিবারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এসব দল ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট পরিবারের হাতেই কুক্ষিগত। একই সঙ্গে তিনি ন্যাশনাল কনফারেন্সের আব্দুল্লা পরিবার, ডিএমকে-র স্ট্যালিন গোষ্ঠী, সমাজবাদী পার্টির যাদব পরিবার এবং বাংলার শাসকদলের পিসি-ভাইপোর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, উত্তরাধিকারের এই রাজনীতির ফলে দলের অভ্যন্তরে সাধারণ ও মেধাবী কর্মীদের উঠে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ছে।
স্বচ্ছতা ও সুশাসনের নতুন মানদণ্ড
শুভেন্দু অধিকারীর মতে, পরিবারতন্ত্রের এই বৃত্ত গণতন্ত্রের মূল চেতনা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বিপরীতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধারণ পারিবারিক পটভূমি ও তাঁর স্বচ্ছ রাজনৈতিক অবস্থানকে তিনি সুশাসনের আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, মোদীর উত্থানকে পুঁজি করে এবং বিরোধী শিবিরের বংশপরম্পরাকে সামনে এনে তিনি কার্যত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছেন। ভোটের মরসুমে পরিবারবাদকে হাতিয়ার করার এই কৌশল জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আসন্ন নির্বাচনগুলিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এক ঝলকে
- কংগ্রেসসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের পরিবারতন্ত্রকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
- বংশপরম্পরাভিত্তিক রাজনীতির ফলে সাধারণ ও মেধাবী কর্মীদের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধারণ পটভূমিকে সুশাসনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে বিরোধীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
- পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই সরব অবস্থান গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবির পাশাপাশি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।