পঞ্চায়েতে ৮ হাজার শূন্যপদে বড় নিয়োগ, নবান্নের ঘোষণায় খুশির হাওয়া!

পঞ্চায়েত দপ্তরে ৭২০০ স্থায়ী পদে নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, লক্ষ্য গ্রামীণ উন্নয়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি জানান, রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর আশা, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত দপ্তর সমগ্র দেশের সামনে একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে উঠে আসবে।
নিয়োগের বড় সুযোগ
উৎসবের মরশুমেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পঞ্চায়েত দপ্তরে ৭২০০টি স্থায়ী পদে এবং প্রায় ১০০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হবে। আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছে। কালীপুজোর পরপরই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপোষণ রুখতে বিধানসভায় বিধি সংশোধন করে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। ‘ভিবিজি-রামজি’ (VBG-RAMJI) প্রকল্পে এ পর্যন্ত ৬৫.৬২ লক্ষ কর্মদিবস তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ লক্ষ মানুষ কাজ পাচ্ছেন। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় সাত হাজার কোটি টাকার স্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পে আরও ২২ লক্ষ মানুষকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা’র আওতায় ৫৪ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে সমীক্ষার ভিত্তিতে ৪৭ লক্ষ যোগ্য পরিবারকে পর্যায়ক্রমে বাড়ি দেওয়া হবে।
ভুয়ো জব কার্ড বাতিল ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা
প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তের পর রাজ্যে ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের ১০ লক্ষ নতুন জব কার্ড প্রদান করা হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যথাক্রমে সাড়ে আট হাজার কোটি ও পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
নতুন ‘পঞ্চায়েত ভবন’
গ্রামীণ প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে নিউ টাউনে একটি অত্যাধুনিক ‘পঞ্চায়েত ভবন’ নির্মাণের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচ একর জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে সল্টলেকে অবস্থিত দপ্তরের পাশাপাশি এই নতুন ভবন প্রশাসনিক কাজে বিশেষ গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।