নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি কেন? সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে কেন্দ্র!

নির্বাচন কমিশনারদের আইনি দায়মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী ও কার্যকাল) আইন, ২০২৩-এর ১৬ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কেন্দ্র এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।
আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং আইনজীবী অরুণ কুমার আগরওয়ালের দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট আইনের ১৬ নম্বর ধারাটি অসাংবিধানিক। আবেদনকারীদের মতে, এই ধারাটি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার পরিধি অতিক্রম করেছে এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।
মামলাকারীদের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, আইনের এই বিশেষ ধারার ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই কমিশনারকে তাঁদের জীবদ্দশায় যাবতীয় ফৌজদারি মামলা থেকে আজীবন অব্যাহতি (Indemnity) দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এই সুরক্ষাকবচের ফলে দায়িত্ব পালনকালে কোনো কমিশনার যদি অনিয়ম বা জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে না। এমনকি বিচার বিভাগও তাঁদের কাজকর্ম পর্যালোচনা করতে পারবে না।
আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের সংবিধানের ৩৬১ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের যে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা নিরঙ্কুশ নয়। তাঁদের ক্ষেত্রেও দায়মুক্তি শুধুমাত্র কার্যকাল চলাকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। অথচ নতুন আইনে কমিশনারদের যে আজীবন সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তা নজিরবিহীন এবং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানদের চেয়েও বেশি।
উল্লেখ্য, আইনি পরিভাষায় ‘দায়মুক্তি’ বা ‘ইমপিউনিটি’ বলতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় বা বিশেষ বিধানের মাধ্যমে শাস্তি বা আইনি দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়াকে বোঝায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার নিয়ে দেশীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। ভারতে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সুরক্ষা দেওয়া আদৌ আইনসম্মত কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট।