রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজো! আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন হঠাৎ এমন ভাবনা?

রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজো! আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন হঠাৎ এমন ভাবনা?

 

রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিয়ে সুর নরম পুরমন্ত্রীর, বিকল্প ঘাট তৈরির প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো চালু করার বিষয়ে বুধবার সকালে রাজ্য সরকারের আগ্রহের কথা জানালেও, বিকেলের মধ্যেই নিজের অবস্থানে কিছুটা নমনীয় হলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে তিনি জানিয়েছেন, বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ কলকাতায় অন্তত ৫০টি ঘাট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বুধবার সকালে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছিলেন, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো চালু করার বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সরকার এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তিনি জানিয়েছিলেন, পরিবেশ আদালতের (গ্রিন ট্রাইবুনাল) নির্দেশ থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে পুজোর অনুমতি দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এই ঘোষণার পরই পরিবেশপ্রেমী ও সমাজকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিবেশবিদদের দাবি, বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। যদি আদালত অবমাননা করে পুজো আয়োজন করা হয়, তবে বিষয়টি আবারও শীর্ষ আদালতের নজরে আনা হবে।

বিকেলে যোধপুর পার্কের কাছে একটি জলাশয় পরিদর্শনের সময় সুর বদলান পুরমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের একটি নির্দেশ রয়েছে। রবীন্দ্র সরোবরের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার খাতিরেই সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমি পরিবেশকে সম্মান করি। যদি রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি না পাওয়া যায়, তবে পরিবেশ আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা কাজ করতে পারি না। তাই অবাঙালি সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি ঘাট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, অতীতে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর সময় শব্দ দূষণ, জল দূষণ এবং আতশবাজি পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে। মর্নিং ওয়াকার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতে, লেকের জল এখনও পুরোপুরি দূষণমুক্ত নয়। তাই নতুন করে সেখানে ছটপুজো শুরু হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে।

পুরমন্ত্রীর এই ইউ-টার্নকে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার, রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করে নাকি বিকল্প ঘাটগুলোর ওপরই ভরসা রাখে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *