ট্রাম্পের ভরাডুবির রেশ, বিশ্ব রাজনীতিতে এবার তেহরানের গর্জন!

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে হাতিয়ার করে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ অভিজিৎ দিপকের
নিজস্ব প্রতিবেদন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক শ্লেষাত্মক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্প হারতেন না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎ দিপকের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের বর্তমান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও কমিশনের ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি-র পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। যদিও সিজেপি বিরোধীদের এই আন্দোলনের নীতিগত সমর্থন জানালেও, তাদের কোনো কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি।
এদিকে, আমেরিকার এই ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কাজের ওপর একপ্রকার গণভোট হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয়, অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ট্রাম্পের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করার সদিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
ট্রাম্পের এই পরাজয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, মার্কিন জনগণ যুদ্ধকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলেছে। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা করলে তার ফল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে, অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিরোধী বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং তেহরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি করেছে।