দিওয়ালির আগেই ধামাকা, ১ লক্ষ চাকরির নতুন ডেডলাইন বেঁধে দিলেন শুভেন্দু!

রাজ্যে ব্যাপক নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর: স্বচ্ছতা ও মেধার ওপর জোর, নবান্নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: রাজ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। নবান্নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে মোট ৬৩,৪৯৬টি শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
নিয়োগের রূপরেখা:
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার শিক্ষা, পুলিশ এবং পঞ্চায়েত দফতর মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে:
- শিক্ষা বিভাগ: শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ৩৩,৪০৯টি পদ।
- পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দফতর: ১২,১৪৭টি পদ (এর বাইরে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে আরও ৫,৪০৯টি পদে নিয়োগ হবে)।
- পঞ্চায়েত দফতর: ৭,১১৯টি স্থায়ী পদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
পঞ্চায়েত দফতরের স্থায়ী পদগুলিতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (WBPSC), যা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দফতরের তাৎক্ষণিক কর্মীসংকট মেটাতে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য ১,০০০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে দীপাবলির পর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে প্রয়োজনীয় বিধিসংশোধন করা হবে। ইতিমধ্যে ১০,২৩৩ জন পুলিশ কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
সপ্তম বেতন কমিশন ও ডিএ:
সপ্তম বেতন কমিশনের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি আর্থিক বছরের মধ্যেই রিপোর্ট জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, অক্টোবরে ২০ শতাংশ বকেয়া মেটানো হয়েছে এবং বাকি অর্থ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কর্মীদের দিয়ে দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও অন্যান্য:
নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সন্দেশখালির শাহজাহান ও জাহাঙ্গিরের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি ম্যাসআর্ট কেলেঙ্কারি নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়া, আগামী ১৪ ডিসেম্বর ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কলকাতা সফরের কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কয়লা, বালি ও গরু পাচারের টাকা ওই কার্যালয়ে মজুত করা হয়েছিল। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তকে প্রভাবিত করতেই এই কাজ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।