বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে তৃণমূল পুর চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ঘিরে শোরগোল!

বনগাঁয় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে বিধায়ককে আমন্ত্রণ না জানানোয় বিতর্ক, দায় স্বীকার জেলা সভাপতির
নিজস্ব প্রতিবেদন, বনগাঁ: বনগাঁয় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীতে দলেরই এক বিধায়ককে আমন্ত্রণ না জানানোকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, অথচ আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বনগাঁ পুরসভার তৃণমূলি চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার। এই ঘটনায় দলের অন্দরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার বনগাঁ পুরসভার নীলদর্পণ প্রেক্ষাগৃহে ওই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া এবং স্থানীয় বিজেপির বিধায়কদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। তবে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। দলীয় বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলকে ব্রাত্য রেখে তৃণমূলের পুরপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোয় সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে জোর চর্চা।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বলেন, “এটি দলের অনুষ্ঠান ছিল, অথচ আমি কোনও আমন্ত্রণ পাইনি।” অন্যদিকে, পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তিনি পুরপ্রধান হিসেবেই সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন।
দলের অন্দরে বিতর্ক বাড়তে থাকায় দায় স্বীকার করে নিয়েছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি নৃপেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “এটি আমাদের একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দিলীপবাবুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলকে আমন্ত্রণ না জানানোটা ভুল হয়েছে। আমি ফোন করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি।”
উল্লেখ্য, বনগাঁয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে গেরুয়া শিবির আগে থেকেই বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ঠ বলেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।