ডিগ্রি বিক্রির দোকান আর নয়! ২৬৭ কলেজে ছাত্র ভর্তিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা

রাজ্যে বিএড ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কড়াকড়ি: গুণমান বজায় না রাখলে মিলবে না ভর্তির অনুমতি
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের বিভিন্ন পেশাজীবী ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারা কলেজগুলিতে ছাত্র ভর্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং মানহীন ‘ডিগ্রি বিক্রির দোকান’ বন্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো কলেজের অনুমোদন বাতিল করতে চাই না। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষের মধ্যে পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের মান উন্নয়ন করতে হবে। গুণমান নিশ্চিত হলে তবেই পরবর্তী সেশনে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হবে।”
শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিএড কলেজগুলোর মান যাচাইয়ে বিশেষ পরিদর্শন টিম পাঠানো হয়েছিল। প্রথম দফার পরিদর্শনের পর ১৫৬টি বিএড কলেজকে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হলেও, ৪৫১টি কলেজকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। এর মধ্যে উত্তর না দেওয়ায় ৯টি কলেজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত পরিদর্শনের পর মাত্র ২৩৭টি কলেজ প্রয়োজনীয় মানদণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর থেকে শুধুমাত্র এই কলেজগুলিকেই ছাত্র ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ কলেজগুলিকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হয়েছে:
- আইটিআই কলেজ: ২৬৫টির মধ্যে ১৪টি কলেজে ছাত্র ভর্তি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
- ফার্মা কলেজ: ১৩৪টির মধ্যে ৩৮টি কলেজে ভর্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
- পলিটেকনিক কলেজ: ৭৪টির মধ্যে একটি কলেজে নতুন ছাত্র ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামহলের মতে, রাজ্যের এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোগত উন্নতি ঘটবে এবং শিক্ষার্থীরা গুণগত শিক্ষার সুযোগ পাবে। সরকারি এই কঠোর নীতি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।