কালীঘাটের মায়ের অজানা ইতিহাস ও অবিশ্বাস্য ভোগ রহস্য!

কালীঘাটে কালীপুজো: সন্ধ্যায় মহালক্ষ্মী আরাধনা ও রাতের নিশিপুজোর অনন্য মেলবন্ধন
কলকাতা: ঐতিহাসিক পীঠস্থান কালীঘাটে কালীপুজোর দিন পালিত হয় এক অনন্য পরম্পরা। এই বিশেষ দিনে দেবী কালীকে একইসাথে মহালক্ষ্মী ও কালীরূপে আরাধনা করা হয়। অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তির আবাহনই এই পুজোর মূল লক্ষ্য।
সন্ধ্যায় মহালক্ষ্মী পুজো ও অলক্ষ্মী বিদায়
কালীপুজোর দিন সন্ধ্যায় মন্দিরে মা কালীর পূজা হয় মহালক্ষ্মী রূপে। মন্দিরের সেবায়েতদের বিশ্বাস, এই বিশেষ আচারের মাধ্যমে অলক্ষ্মীকে বিদায় জানিয়ে ঘরে ধনলক্ষ্মীকে আহ্বান করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ প্যাকাটি হাতে নিয়ে মন্দির তিনবার প্রদক্ষিণের মাধ্যমে প্রাচীন রীতি মেনে অলক্ষ্মী বিদায়ের আচার সম্পন্ন হয়। এরপর নাড়ু, মিষ্টান্ন, নতুন শাড়ি ও সুগন্ধি দিয়ে দেবীকে সাজানো হয়। এই সময়ে মন্দির দর্শনার্থীদের জন্য কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ভোগের আয়োজনেও থাকে বিশেষ বৈচিত্র্য— খিচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, মাছ ও নিরামিষ-আমিষ পদের সমাহার।
পৌরাণিক গুরুত্ব ও ইতিহাস
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম হলো কালীঘাট। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে সতীর ডান পায়ের আঙুল পতিত হয়েছিল। আদিগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই মন্দিরের বর্তমান কাঠামোটি ১৮০৯ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়। শতবর্ষ প্রাচীন এই মন্দির ঘিরে জনশ্রুতি ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আজও অটুট।
রাতের নিশিপুজো ও প্রথা
সন্ধ্যাবেলার বিশেষ পর্ব শেষে গভীর রাতে অমাবস্যার তিথিতে শুরু হয় মায়ের মূল নিশিপুজো। মায়ের শয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাতে দেবীকে নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়। মন্দিরের অন্যতম প্রধান ভোগ বা নিবেদনের তালিকায় জনপ্রিয় হলো স্থানীয় হরেন ময়রার বিখ্যাত ‘ক্ষীরমোহন’ বা চ্যাপ্টা রসগোল্লা।
পুজোর দিন মন্দিরের সময়সূচি
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীপুজোর দিন ভোর ৩টায় মঙ্গল আরতি ও নিত্যপুজোর মাধ্যমে দিনের সূচনা হবে এবং ভোর ৪টা থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য গর্ভগৃহ উন্মুক্ত করা হবে। দুপুরের ভোগ নিবেদনের সময় মন্দিরে দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। রাতের বিশেষ নিশিপুজো ও শয়ন পর্ব শেষে রাত ৩টায় মন্দিরের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কালীঘাটের এই সুপ্রাচীন ও অনন্য রীতি দেখতে প্রতি বছর কালীপুজোর দিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। সেবায়েতদের মতে, এই দুই রূপে দেবীর আরাধনা সমাজ ও মানবজীবনের অশুভ অন্ধকার দূর করতে সাহায্য করে।