দেউলিয়া হওয়ার পথে পাকিস্তান, ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে কাঁপছে শাহবাজ সরকার!

দেউলিয়া হওয়ার পথে পাকিস্তান, ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে কাঁপছে শাহবাজ সরকার!

 

আকাশছোঁয়া আমদানি ও মন্থর রপ্তানিতে সংকটে পাকিস্তানের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আশানুরূপ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতায় গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশটির মোট আমদানি ব্যয় ১২.৫ শতাংশ বেড়ে ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি আমদানির উচ্চমূল্যের কারণে বছর শেষে মোট আমদানি বিল ৭১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অন্যদিকে, একই সময়ে রপ্তানি খাতে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই নগণ্য। গত চার মাসে রপ্তানি ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ১১.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের ফলে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, বাস্তবে তেমন কোনো জোয়ার দেখা যায়নি। সাধারণত প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি প্রত্যাশিত হলেও, সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

রপ্তানি খাতকে চাঙ্গা করতে এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পাকিস্তান সরকার চলতি বাজেটে ৮৮ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি ভর্তুকির বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছিল। বড় রপ্তানিকারকদের কম সুদে ঋণ প্রদানের এই উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রার মান সামান্য স্থিতিশীল হয়ে ২৭৬.৬৬ রুপিতে দাঁড়ালেও সামগ্রিক অর্থনীতির ভিত্তি এখনো দুর্বল।

চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান মন্থর গতির কারণে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এমনকি ২০২৯ সালের মধ্যে রপ্তানি ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্জন করা পাকিস্তানের জন্য প্রায় আসাম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি এবং মাত্র ২.৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি—এই বিশাল ব্যবধানই পাকিস্তানের বিদ্যমান সংকটের প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইলআউট প্যাকেজের শর্ত অনুযায়ী রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা থেকে পাকিস্তান বর্তমানে অনেকটাই দূরে অবস্থান করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *