বায়োটিন ক্যাপসুলে কি আদেও কমবে চুল পড়া, জানুন কাদের জন্য এটি উপকারী ও কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

বর্তমান সময়ে চুল পড়ার সমস্যায় জেরবার সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বাজারে ‘বায়োটিন’ বা ভিটামিন B7 একটি জাদুকরী সাপ্লিমেন্ট হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মূলত এটি শরীরে খাবার থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে তা শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং কেরাটিন নামক প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা চুলের গোড়া ও গঠন মজবুত রাখার প্রধান উপাদান। জার্নাল রিভিউ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে বায়োটিনের অভাব ঘটলে হেয়ার ফলিকল দুর্বল হয়ে চুল পাতলা হতে শুরু করে এবং ঝরে যায়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যানুযায়ী, ডিমের কুসুম, বাদাম, সবুজ শাকসবজি এবং মাংসের মতো খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় বায়োটিন পেয়ে থাকে। তবে যাদের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি স্পষ্ট এবং তার ফলে নখ ভেঙে যাওয়া বা চুল পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট কার্যকর হতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, এটি জলীয় ভিটামিন হওয়ায় অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, তাই যথেচ্ছ ব্যবহারে কোনো বাড়তি সুফল মেলে না। তবে হরমোনজনিত সমস্যা বা বংশগত কারণে চুল পড়লে এটি খুব একটা কাজ করে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বায়োটিন সেবন করা উচিত নয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহারে ব্রণ, হজমের সমস্যা কিংবা অনিদ্রার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, স্তন্যদানকারী মা এবং কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে সতর্কতা জরুরি। কোনো ম্যাজিক পিল হিসেবে নয়, বরং সুষম ডায়েট, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। তাই সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে একটি বায়োটিন রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।