সাবধান! ঘুমের মধ্যে নাক ডাকছেন? ৭১% বেড়ে যেতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

সাবধান! ঘুমের মধ্যে নাক ডাকছেন? ৭১% বেড়ে যেতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় ঘুমন্ত অবস্থায় নাক ডাকার বিষয়টিকে গভীর ঘুমের লক্ষণ নয় বরং হৃদরোগের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বলা হয়। গবেষণার তথ্যমতে, যারা নিয়মিত এই সমস্যায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তুলনায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭১ শতাংশ বেশি থাকে। মূলত ঘুমের মধ্যে গলার পেশি শিথিল হয়ে শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টির ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।

স্থূলতা ও স্লিপ অ্যাপনিয়ার যোগসূত্র

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথ পার্টনার্সের করা এই বিশাল পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সাথে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘাড়ের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার ফলে শোয়া অবস্থায় শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসকে ব্যাহত করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

গবেষণার নেপথ্যে থাকা বিশাল তথ্যভাণ্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই রোগের ওপর করা অন্যতম বৃহত্তম এই গবেষণায় প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষক হিদার ফিটজ কে জানান, দীর্ঘমেয়াদী এই পর্যবেক্ষণে ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনধারা ও শারীরিক অবস্থা তুলনা করে দেখা গেছে যে, অর্ধেকের বেশি রোগীই তীব্র স্থূলতার শিকার। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা, সারা দিন ক্লান্তি বোধ করা এবং ঘুমের মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসার মতো লক্ষণগুলো অবহেলা করলে তা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

এক ঝলকে

  • নাক ডাকার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৭১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এই রোগের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
  • ঘুমের মধ্যে মাঝেমধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা এবং দিনের বেলা তীব্র ঝিমুনি এই রোগের প্রধান উপসর্গ।
  • ২৯ লক্ষ মানুষের ডাটা বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *