ব্যবহৃত ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার আগে সাবধান, কোন বিষয়গুলো যাচাই না করলে লোকসান নিশ্চিত জানুন

পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের এই সময়ে ভারতের বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। নতুনের চড়া দামের কারণে মধ্যবিত্তের অনেকেই এখন ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ইভি কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে সাধারণ জ্বালানি চালিত গাড়ির তুলনায় ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সর্তকতার ধরনটি ভিন্ন। যান্ত্রিক জটিলতা এবং ব্যাটারির উচ্চমূল্যের কারণে কেনার আগে সঠিক যাচাই-বাছাই না করলে সাশ্রয়ের বদলে বড় ধরনের লোকসান নিশ্চিত হতে পারে।
ব্যাটারি ও যান্ত্রিক সক্ষমতা যাচাই
একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রাণের স্পন্দন হলো এর ব্যাটারি, যা সময়ের সাথে সাথে কার্যক্ষমতা হারায়। সেকেন্ড হ্যান্ড ইভি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ব্যাটারির ‘হেলথ রিপোর্ট’ দেখা। স্মার্টফোনের মতো ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গেলে গাড়ি পরিবর্তনের চেয়ে ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ বেশি হতে পারে। এছাড়া গাড়ির অনবোর্ড চার্জার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘এয়ার হিট পাম্প’ সচল আছে কি না, তা অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
শারীরিক কাঠামো ও টায়ার পরীক্ষা
ইভি-র ব্যাটারি সাধারণত গাড়ির নিচের অংশে বা আন্ডারবডিতে থাকে। রাস্তার স্পিড বাম্প বা পাথরের আঘাতে ব্যাটারি কেসিং ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা ভবিষ্যতে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই আন্ডারবডিতে কোনো ডেন্ট বা আঁচড় আছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। একই সাথে সাধারণ গাড়ির তুলনায় ইভি-র ওজন বেশি হওয়ায় এর টায়ার দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আর্দ্রতার কারণে ব্যাটারি সংযোগস্থলে মরিচা ধরা বা ওয়্যারিংয়ের অবস্থা খারাপ হওয়া বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত দিতে পারে।
এক ঝলকে
- কেনার আগে ব্যাটারির বর্তমান হেলথ রিপোর্ট এবং চার্জিং সক্ষমতা অবশ্যই পরীক্ষা করুন।
- গাড়ির নিচের অংশে কোনো আঘাত বা ডেন্ট আছে কি না তা অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে যাচাই করুন।
- উচ্চ ওজনের কারণে টায়ারের ক্ষয় এবং ব্যাটারি সংযোগস্থলে মরিচার উপস্থিতির দিকে নজর দিন।
- অনবোর্ড চার্জার ও এয়ার হিট পাম্পের মতো ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত হোন।