মদ্যপান করেন না? তাও আপনার লিভার বিপদে পড়তে পারে! জানুন আসল কারণ

লিভারের অসুখ মানেই অবধারিতভাবে মদ্যপানকে দায়ী করার এক প্রচলিত ধারণা সমাজে দীর্ঘকাল ধরে শিকড় গেড়ে আছে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক গবেষণা এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে। চিকিৎসকদের মতে, যারা কখনও মদ স্পর্শ করেননি, তারাও এখন আশঙ্কাজনক হারে ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। মূলত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের আমূল পরিবর্তনই নিঃশব্দে আমাদের শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে বিকল করে দিচ্ছে।
অদৃশ্য বিপদের নেপথ্যে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
বর্তমানে লিভারের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত চিনি ও ফর্কটোজ সমৃদ্ধ কোমল পানীয়। মিষ্টি পানীয় বা বেকারির খাবারে থাকা এই শর্করা লিভারে মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে, যা পরবর্তীকালে ‘নন-আলকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’-এর জন্ম দেয়। এছাড়া প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট এবং প্রিজারভেটিভ লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ তৈরি করে। স্থূলতা এবং কায়িক শ্রমের অভাব এই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে পেটের মেদ লিভার সিরোসিসের অন্যতম অনুঘটক হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধের উপায়
খাদ্যাভ্যাসের বাইরেও হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ লিভার নষ্ট হওয়ার একটি বড় কারণ। দূষিত খাবার বা জলের মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ এবং রক্তের মাধ্যমে ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস লিভারের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চিকিৎসকরা ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি গ্রহণ এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চার পরামর্শ দিচ্ছেন। শরীরের ‘পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট’ হিসেবে পরিচিত লিভারকে সুস্থ রাখতে মদ্যপান ত্যাগের পাশাপাশি সুষম জীবনযাত্রা বজায় রাখাই এখন দীর্ঘায়ু হওয়ার একমাত্র পথ।
এক ঝলকে
- অতিরিক্ত চিনি, ফর্কটোজ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে মদ্যপান না করেও লিভার সিরোসিস হতে পারে।
- অলস জীবনযাপন ও পেটের মেদ লিভারের চারপাশে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- দূষিত জল, খাবার ও রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হেপাটাইটিস ভাইরাস লিভার বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ।
- নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণই লিভারের অসুখ প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার।