নেইল পলিশ কি ‘স্লো পয়জন’? নখের সাজে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নয় তো? জানুন আসল সত্য!

নেইল পলিশ কি ‘স্লো পয়জন’? নখের সাজে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নয় তো? জানুন আসল সত্য!

নখের সৌন্দর্য বাড়াতে নেইল পলিশের ব্যবহার এখন আধুনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই আকর্ষণীয় রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ একগুচ্ছ রাসায়নিক। ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ হেলথ’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা পত্রে দাবি করা হয়েছে, নেইল পলিশে ব্যবহৃত রাসায়নিকগুলো নখের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে রক্তনালীতে প্রবেশ করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের ‘টক্সিক ট্রায়ো’

গবেষকদের মতে, নেইল পলিশে মূলত তিনটি অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘টক্সিক ট্রায়ো’ বলে অভিহিত করেছেন। এর প্রথমটি হলো ডিবিউটিল থ্যালেট (Dibutyl Phthalate), যা পলিশকে নখের সাথে আটকে রাখতে সাহায্য করে। এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয় উপাদান টলুইন (Toluene), যার তীব্র গন্ধ মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা এবং চোখের জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘসময় এর সংস্পর্শে থাকলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তৃতীয়টি হলো ফরমালডিহাইড (Formaldehyde), যা নখ শক্ত করতে ব্যবহৃত হলেও এটি একটি ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে পরিচিত। এটি ত্বকের অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের জন্য দায়ী।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিকারের উপায়

নেইল পলিশের অতিরিক্ত ব্যবহারে নখ হলদেটে ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত পার্লারে কাজ করেন বা নখের কৃত্রিম সাজসজ্জায় অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে অ্যাজমা বা ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া থ্যালেটের উপস্থিতির কারণে শরীরে প্রাকৃতিক হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

বিশেষজ্ঞরা এই ঝুঁকি এড়াতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। নেইল পলিশ কেনার আগে লেবেলে থাকা উপাদানগুলো পরীক্ষা করা এবং বিষাক্ত রাসায়নিকমুক্ত পণ্য নির্বাচন করা জরুরি। নখে রঙ লাগানোর সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে বসা উচিত। নখকে সুস্থ রাখতে সব সময় রঙ দিয়ে ঢেকে না রেখে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা প্রয়োজন। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে রাসায়নিকযুক্ত পলিশের পরিবর্তে ওয়াটার-বেসড বা জলীয় উপাদান দিয়ে তৈরি রঙ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *