আপনার তীব্র মাথাব্যথা মাইগ্রেন নাকি ব্রেন টিউমার! জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত

তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলেই অনেকেই ব্রেন টিউমারের আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন। তবে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাথাব্যথার মূল কারণ মাইগ্রেন বা অন্য কোনো সাধারণ সমস্যা। তবুও কিছু নির্দিষ্ট ও অস্বাভাবিক উপসর্গকে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য নিউরোলজিস্টদের মতে, মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত পর্ব বা এপিসোড আকারে আসে। মাথার একপাশে তীব্র যন্ত্রণা, আলো বা শব্দে অস্বস্তি, দৃষ্টিবিভ্রম এবং বমিভাব এর প্রধান লক্ষণ, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর কমে যায়। অন্যদিকে, ব্রেন টিউমার-জনিত মাথাব্যথা ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই ব্যথা বেশি অনুভূত হয় এবং কাশি বা শারীরিক চাপে তা আরও বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এই ব্যথা ক্রমশ খারাপের দিকে যায়।
সতর্কতা ও সম্ভাব্য প্রভাব মাথাব্যথার পাশাপাশি শরীরের একপাশে দুর্বলতা, কথা বলতে জড়তা, আচরণ ও স্মৃতিশক্তির অবনতি, ভারসাম্যহীনতা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় প্রথমবার খিঁচুনি দেখা দিলে তা ব্রেন টিউমারের মতো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। টিউমারের কারণে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক চাপ বাড়ার ফলেই মূলত এই স্নায়বিক সমস্যাগুলো তৈরি হয়, যা রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। চিকিৎসকদের মতে, মাথাব্যথার ধরনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন এলে বা তা ক্রমশ বাড়তে থাকলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।