ভুঁড়ি আর সৌভাগ্য নয়: নীরব ঘাতক অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটির ফাঁদে ৪০% ভারতবাসী

ভুঁড়ি আর সৌভাগ্য নয়: নীরব ঘাতক অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটির ফাঁদে ৪০% ভারতবাসী

একসময় বাঙালি সমাজে মধ্যবয়সের ভুঁড়িকে আর্থিক সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। পেটের এই আপাত নিরীহ মেদ যে আসলে ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের মতো মারাত্মক রোগের অনুঘটক, তা এখন স্পষ্ট।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১ লক্ষ ১৩ হাজারের বেশি মানুষের ওপর চালানো আট বছরের এক বিশাল সমীক্ষায় উদ্বেগের ছবি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা ‘দ্য ল্যান্সেট’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ‘অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি’ বা ভুঁড়ির সমস্যায় ভুগছেন।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক বা রোগা দেখায় এমন ৩৯.৫% মানুষের পেটেও বিপজ্জনক মাত্রায় মেদ জমছে (নন-ওবিজ অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি)। চিকিৎসকদের মতে, এই শ্রেণির মানুষের সুস্থ থাকার মিথ্যা ধারণাই তাঁদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে। গবেষণার মুখ্য গবেষক ডা. রঞ্জিতমোহন অঞ্জনার মতে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, ১১.৪% ডায়াবেটিক এবং ৩৫.৫% প্রি-ডায়াবেটিক—যা ভবিষ্যতে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনির রোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভুঁড়ি কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, এটি মারাত্মক মেটাবলিক সমস্যার ইঙ্গিত। কেবল সাময়িক জিম বা ডায়েট নয়; নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রার পরিবর্তনই পারে এই নীরব ঘাতককে প্রতিরোধ করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *