একবারে ঢকঢক করে জল খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে? শরীরে দানা বাঁধছে না তো ‘হাইপোনেট্রিমিয়া’?

একবারে ঢকঢক করে জল খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে? শরীরে দানা বাঁধছে না তো ‘হাইপোনেট্রিমিয়া’?

শরীরের জন্য জল অপরিহার্য—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরাও নিয়ম করে পর্যাপ্ত জল পানের পরামর্শ দেন। তবে জল খাওয়ার পদ্ধতি ভুল হলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। অনেকেই তীব্র তেষ্ণায় বা তাড়াহুড়োয় এক নিঃশ্বাসে পুরো এক লিটার জল গিলে ফেলেন। কিন্তু আপনার এই ছোট্ট অভ্যাসটিই কিন্তু ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

একবারে অতিরিক্ত জল পানে কিডনির কী ক্ষতি হয়?

সারাদিন ধরে বিরতি দিয়ে জল খেলে কিডনি তা সহজে ফিল্টার করতে পারে এবং শরীর হাইড্রেটেড থাকে। কিন্তু হঠাৎ একবারে প্রচুর জল খেয়ে ফেললে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং তা দ্রুত শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে রক্তে জলের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সোডিয়াম বা লবণের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপোনেট্রিমিয়া’ (Hyponatremia)

রক্তে সোডিয়াম কমলে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে?

আমাদের স্নায়ু ও পেশি সচল রাখতে এবং শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সোডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে শরীরের কোষ ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত জল ঢুকে সেগুলো ফুলে যায়। এর ফলে যা হতে পারে:

  • তীব্র মাথাব্যথা ও বমি ভাব
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মানসিক বিভ্রান্তি
  • পেশিতে টান ধরা বা খিঁচুনি
  • পরিস্থিতি জটিল হলে রোগী সংজ্ঞা হারাতেও পারেন

জল পানের সঠিক নিয়ম কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে অনেকটা জল না খেয়ে সারাদিন ধরে ছোট ছোট চুমুকে বা অল্প অল্প করে জল পান করা উচিত। বিশেষ করে যারা হার্ট বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জল পানের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রবাদেই আছে, ‘কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়’—তাই সুস্থ থাকতে জল পানের সঠিক নিয়ম মেনে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *