বিছানায় গেলেই কি ঘুম আসে নাকি ছটফট করেন? জেনে নিন কারণ!

দ্রুত ঘুম আসা বা দেরিতে হওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া: কারণ ও ব্যাখ্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানুষের ঘুমের গতির ভিন্নতা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারও বিছানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম আসে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা হতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের ঘুম ও জাগরণের এই চক্র মূলত ‘সার্কেডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm) বা জৈবিক ঘড়ির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলে অবস্থিত এই জৈবিক ঘড়ি মূলত আলো-আঁধারের চক্র মেনে কাজ করে। চারপাশ অন্ধকার হলে শরীর মেলাটোনিন নামক হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মানুষকে ঘুমে আচ্ছন্ন করতে সাহায্য করে। যাঁদের শরীরে এই হরমোনের নিঃসরণ দ্রুত ঘটে, তাঁরা বিছানায় যাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘুমের এই গতির পেছনে জীবনযাত্রা, শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক অবস্থার বড় প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম যারা করেন, তাঁদের শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয় এবং গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত থাকে। বিপরীতে, আসীন জীবনযাত্রা বা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের নীল আলোর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বেশি থাকে, যা মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয় এবং ঘুমের গতি কমিয়ে দেয়।
এছাড়াও জিনগত বৈশিষ্ট্য বা বংশগতি ঘুমের ধরনের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেকেই জন্মগতভাবে ‘মর্নিং লার্ক’ (সকালে কর্মচঞ্চল) বা ‘নাইট আউল’ (রাতে কর্মচঞ্চল) হিসেবে পরিচিত হন। তাই দ্রুত বা দেরিতে ঘুমিয়ে পড়া কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার এক অনন্য ধরন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অনিদ্রার সমস্যা এড়াতে নিজের ঘুমের ধরন বুঝে সঠিক রুটিন মেনে চলা এবং শোয়ার পরিবেশ উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে যে কেউ আরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারেন।