চোখে বাজির ফুলকি ঢুকেছে? ভুল করেও এই কাজগুলো করবেন না!

দীপাবলির আনন্দ হোক সুরক্ষিত: চোখের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞের বিশেষ পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীপাবলির আলোক উৎসব এবং বাজি ফাটানোর আনন্দে চোখের সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন কনসালট্যান্ট অফথ্যালমোলজিস্ট ডা. গুঞ্জা চৌধুরী। উৎসবের দিনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখতে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
চোখ রক্ষায় করণীয়:
১. চশমা ব্যবহার: বাজি ফাটানোর সময় সাধারণ চশমা বা পাওয়ারবিহীন চশমা পরার অভ্যাস করুন। এতে বাজির ফুলকি বা রাসায়নিক কণা সরাসরি চোখে প্রবেশের ঝুঁকি কমে।
২. ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস বর্জন: বাজি ফাটানোর সময় তার ওপর মাটির হাঁড়ি বা ধাতব পাত্র চাপা দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিস্ফোরণে পাত্রের টুকরো ছিটকে এসে চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, তাই এই অভ্যাস বর্জনীয়।
৩. হ্যান্ড হাইজিন: বাজি ধরার পরপরই চোখে বা মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাজি ফাটানোর পর সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। অন্যথায় বাজিতে থাকা রাসায়নিক চোখে জ্বালা বা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৪. নিরাপদ দূরত্ব: কোনো বাজি জ্বালার পর সঙ্গে সঙ্গে না ফাটলে কৌতুহলবশত সেটির কাছে যাবেন না। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
৫. কনট্যাক্ট লেন্স: যাঁরা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, উৎসবের সময় তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। আগুনের উত্তাপে লেন্সের কারণে চোখে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ:
- যদি চোখে কোনো জ্বলন্ত কণা বা ফুলকি ঢুকে যায়, তবে কালক্ষেপণ না করে অন্তত ১০ মিনিট পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
- প্রয়োজনে চোখের চারপাশে ঠান্ডা বা বরফের সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
- চোখে আঘাত লাগলে ভুলেও তা ঘষা যাবে না, এতে চোখের সূক্ষ্ম টিস্যু আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- চোখে কোনো অবস্থাতেই ঘরোয়া টোটকা যেমন—হলুদ গুঁড়ো বা তেল ব্যবহার করা যাবে না।
- প্রাথমিক পদক্ষেপে আরাম না মিললে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রে বা জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে। দীপাবলির রাতে অনেক হাসপাতালেই বিশেষ জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সতর্কতা ও সচেতনতাই উৎসবের দিনগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত চোখের আঘাত থেকে আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে।