পোস্ট অফিসের আরডি স্কিমে সামান্য বিনিয়োগেই আড়াই লক্ষ টাকা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

বর্তমান সময়ে নিরাপদ ও নিশ্চিত লাভের বিনিয়োগ হিসেবে ডাকঘর বা পোস্ট অফিসের গুরুত্ব অপরিসীম। মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের কথা মাথায় রেখে পোস্ট অফিস নিয়ে এসেছে আকর্ষণীয় রিকারিং ডিপোজিট বা আরডি (RD) স্কিম। যারা এককালীন বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন না, তাদের জন্য এই প্রকল্প বর্তমানে সেরা বিকল্প হয়ে উঠেছে। সরকারি গ্যারান্টি থাকায় এই বিনিয়োগ যেমন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত, তেমনই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়তেও এটি অত্যন্ত সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্ট অফিসের এই আরডি প্রকল্পে বর্তমানে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এই স্কিমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের সুবিধা। প্রতি তিন মাস অন্তর অর্জিত সুদ আসলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মেয়াদের শেষে আমানতকারীর হাতে পৌঁছায় বড় অঙ্কের তহবিল। মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে যেকোনো ভারতীয় নাগরিক পোস্ট অফিসে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং এখানে বিনিয়োগের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই।
আর্থিক হিসেব অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতি মাসে ৩,৫০০ টাকা করে এই আরডি স্কিমে জমা করেন, তবে ৫ বছর বা ৬০ মাস শেষে তাঁর মোট জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ২,১০,০০০ টাকা। বর্তমান সুদের হার অনুযায়ী, মেয়াদের শেষে ওই বিনিয়োগকারী সুদ-আসলে মোট ২,৪৯,৭৭৬ টাকা হাতে পাবেন। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে শুধুমাত্র সুদ বাবদই আয় হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে বড় লাভে পরিণত করার এমন সুযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দেশের যেকোনো প্রান্তের পোস্ট অফিস থেকে এই আরডি সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। মূলত বাজারের অনিশ্চয়তা এড়াতে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত আর্থিক তহবিল গঠন করতে এই প্রকল্প অনন্য। যারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণ বা জরুরি প্রয়োজনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতে পেতে চাইছেন, তাদের জন্য পোস্ট অফিসের এই রিকারিং ডিপোজিট স্কিম একটি আদর্শ এবং লাভজনক পথ হতে পারে। বড় কোনো আর্থিক পরিকল্পনার জন্য আজই অল্প অল্প করে জমানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না সচেতন বিনিয়োগকারীরা।