অফিস কি পরকীয়ার নতুন আস্তানা! চাঞ্চল্যকর গবেষণায় উঠে এলো নেপথ্যের আসল কারণ

পেশাগত প্রয়োজনে দিনের একটি বড় অংশ মানুষকে কর্মস্থলে কাটাতে হয়। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এই কর্মক্ষেত্রই অনেকের জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমান্তরাল এক জগত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং সাইট ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’ সহ বিভিন্ন সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু পেশার মানুষের মধ্যে পরকীয়ায় জড়ানোর প্রবণতা অন্য খাতের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে বেশি। এই প্রবণতা বর্তমানে পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পেশার তালিকা ও নেপথ্যের কারণ
গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের দীর্ঘ এবং অনিয়মিত কর্মঘণ্টা অনেক সময় সহকর্মীদের সাথে মানসিক নির্ভরতা তৈরি করে। একইভাবে কর্পোরেট ও ফিনান্স সেক্টরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিবেশ এবং ঘনঘন ট্যুর নতুন সম্পর্কের পথ প্রশস্ত করে। অন্যদিকে, এভিয়েশন শিল্পের কর্মীদের পরিবারের থেকে দীর্ঘকাল দূরে থাকা এবং একাকীত্ব তাঁদের এই পথে ধাবিত করে। এমনকি প্রযুক্তি ও মিডিয়া জগতের মানুষেরা একঘেয়েমি কাটাতে বা দীর্ঘ সময় একত্রে কাজ করতে গিয়ে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন।
আবেগপ্রবণতা ও পরিবেশগত প্রভাব
গবেষকদের মতে, পেশা সরাসরি পরকীয়ার জন্য দায়ী নয় বরং কাজের ধরণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এখানে মূল ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষেত্রে কাটানো এবং পরিবারের সাথে পর্যাপ্ত সময়ের অভাব মানুষকে মানসিকভাবে একা করে দেয়। এই অবস্থায় স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ তাঁর নিকটবর্তী সহকর্মীর কাছে আবেগীয় আশ্রয় খোঁজে। কর্মস্থলের অতিরিক্ত মেলামেশা ও কাজের চাপই মূলত বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যরকম সম্পর্কে মোড় নেয়।
এক ঝলকে
- কাজের দীর্ঘ সময় এবং অনিয়মিত রুটিন পরকীয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
- চিকিৎসা, কর্পোরেট, এভিয়েশন ও মিডিয়া জগতের কর্মীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
- একাকীত্ব এবং পরিবারের সাথে সময়ের অভাব সহকর্মীদের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে।
- গবেষণায় দেখা গেছে, পেশা নয় বরং কাজের অতিরিক্ত চাপ ও পরিবেশই মানসিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী।