ডুয়ার্সের বুকে লুকিয়ে থাকা এক টুকরো থাইল্যান্ড! নদীপথে রোমাঞ্চ আর বন্যপ্রাণের হাতছানিতে জমজমাট সিকিয়াঝোরা

শহরের কোলাহল থেকে দূরে ডুয়ার্সের ‘হিডেন জেম’ সিকিয়াঝোরা
আলিপুরদুয়ার: দৈনন্দিন জীবনের যান্ত্রিকতা ও যানজটের ভিড় থেকে কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ‘সিকিয়াঝোরা’। বক্সা টাইগার রিজার্ভের অরণ্যঘেরা পরিবেশে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।
সিকিয়াঝোরার প্রধান আকর্ষণ হলো শান্ত নদীর বুক চিরে নৌকাবিহার। ঘন জঙ্গল, স্বচ্ছ জলধারা এবং পাথুরে নদীপথের মধ্য দিয়ে নৌকায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের এক অনন্য প্রশান্তি দেয়। যারা কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে এই জায়গাটি দারুণ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে আলোকচিত্রীদের জন্য এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পাহাড়ি আবহ অত্যন্ত মনোরম।
বক্সা সংলগ্ন অরণ্য হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া যায়। তবে এটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের বনবিভাগের কঠোর নিয়মাবলি মেনে চলতে হয়। স্থানীয় গাইডদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পথেই ভ্রমণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ভ্রমণ তথ্য:
- কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় এবং স্রোত বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় ভ্রমণের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশাবলি জেনে নেওয়া জরুরি।
- যাতায়াত: সিকিয়াঝোরা পৌঁছাতে নিউ আলিপুরদুয়ার, আলিপুরদুয়ার জংশন কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ব্যবহার করা যায়। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বক্সা অঞ্চলের দিকে যেতে হবে।
- থাকার ব্যবস্থা: পর্যটকদের থাকার জন্য বক্সা, রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তী অঞ্চলে একাধিক হোমস্টের সুবিধা রয়েছে। এখানে থেকে বক্সা দুর্গ, রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তীর মতো সংলগ্ন দর্শনীয় স্থানগুলোও অনায়াসেই ঘুরে দেখা সম্ভব।
চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে সিকিয়াঝোরা হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের পরবর্তী গন্তব্য।