বিশ্বকাপের অদ্ভুত রেকর্ড, টানা ৬ আসরে গোল্ডেন বুট জিততে লেগেছিল ঠিক ৬টি গোল!

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে অনেক রেকর্ডই সময়ের স্রোতে ভেসে যায়, আবার কিছু রেকর্ড হয়ে থাকে চিরস্মরণীয়। এমনই এক বিস্ময়কর পরিসংখ্যান ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গোলসংখ্যা ছিল ঠিক ৬টি।
অবিশ্বাস্য সেই ছয় আসরের গোল্ডেন বুট বিজয়ীরা
এই ধারার সূচনা হয় ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মারিও কেম্পেসের হাত ধরে, যিনি ৬ গোল করে দলকে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালে ইতালির পাওলো রোসি, ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকার এবং ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি প্রত্যেকেই ৬ গোল করে এই মুকুট নিজেদের করে নেন। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রাশিয়া ওলেগ সালেঙ্কো এবং বুলগেরিয়ার হ্রিস্টো স্টইচকোভ উভয়েই ৬ গোল করে যৌথভাবে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। সবশেষ ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার দাভোর সুকের ৬ গোল করে এই অদ্ভুত ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
রেকর্ড ভাঙার পেছনের কারণ ও প্রভাব
১৯৭৮ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত ফুটবল কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও শীর্ষ গোলদাতাদের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানের পুনরাবৃত্তি ছিল সত্যিই এক বিরল কাকতালীয় ঘটনা। তবে ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ৮ গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের সেই ‘ছয়ের গেরো’ ভেঙে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন। এই পরিসংখ্যানটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে, যা আজও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আলোচনার খোরাক জোগায়। পরিসংখ্যানের এই সামঞ্জস্য মূলত সেই সময়ের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের খেলার ধরনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।