‘এত কম সময়ে সম্ভব নয়!’ ফেডারেশনের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ IFA, তোপের মুখে AIFF
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। যুবভারতীতে ঐতিহাসিক ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। কিন্তু মহারণের ঠিক আগে টিকিট নিয়ে চরম কেলেঙ্কারি ও অব্যবস্থাপনার ছবি সামনে এল। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) ফুটবলার ও কোচদের জন্য যে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ম্যাচের দিন বিকেল পর্যন্ত তা বহু ক্লাবের কাছেই পৌঁছয়নি! তবে তিন বড় ক্লাব মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও মহামেডান টিকিট পেলেও, সুদূর জেলা থেকে আসা অনেক খেলোয়াড় ও তাঁদের পরিবার পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
অ্যাপের অপেক্ষায় থেকে হতাশা
অভিযোগ ছিল, সমস্ত ক্লাবের তথ্য আগেই নিয়েছিল আইএফএ (IFA)। ফেডারেশনের কথা ছিল, নির্দিষ্ট অ্যাপের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সরাসরি টিকিট পৌঁছে দেওয়া হবে ক্লাবগুলির কাছে। সেই ভরসাতেই অপেক্ষায় ছিলেন কর্তারা ও ফুটবলাররা। কিন্তু ম্যাচের ঘণ্টাখানেক আগেও বহু ক্লাবের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা থাকায় ছড়ায় তীব্র বিভ্রান্তি। সুদূর জেলা থেকে কলকাতায় এসেও টিকিট না পাওয়ায় হতাশ অনেক খেলোয়াড়। পরিস্থিতি সামলাতে দিশেহারা হয়ে অনেক ক্লাব সরাসরি আইএফএ অফিসে ভিড় জমায়।
দায় নিতে নারাজ IFA
পুরো ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে আইএফএ। সংস্থাটির সচিব অনির্বাণ দত্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফেডারেশন প্রথমে সরাসরি টিকিট পাঠানোর কথা বললেও ম্যাচের দিন দুপুরে আইএফএ-র হাতে টিকিট ধরানোর চেষ্টা করা হয়। অনির্বাণ দত্ত বলেন, “আমরা সব ক্লাবের তথ্য দিয়েছিলাম। ফেডারেশন বলেছিল সরাসরি পাঠাবে। কিন্তু আজ দুপুরে আমাদের জানানো হয় টিকিট দেওয়ার কথা। এত কম সময়ে সব ক্লাবে তা পৌঁছে দেওয়া আসাম্ভব, তাই আমি সেই দায়িত্ব নিইনি।”
ম্যাচের মতো এত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে এসে এমন গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা কেন হলো, তা নিয়ে এখন তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ভারতীয় ফুটবল মহলে।