ট্রাম্পের হাতের পুতুল ইনফান্তিনো! পুড়বে কুশপুতুল, তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব।

ফিফার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ইনফান্তিনোর কুশপুতুল দাহ করবে ইডেনব্রিজ বনফায়ার সোসাইটি
নিজস্ব প্রতিবেদন: ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে তাকে ব্যঙ্গাত্মক কুশপুতুল হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেনের কেন্টের ইডেনব্রিজ বনফায়ার সোসাইটি। আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বাৎসরিক ‘বনফায়ার নাইট’ সেলিব্রেশনের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ইনফান্তিনোর এই বিশাল আকৃতির কুশপুতুলটি।
কুশপুতুলটিতে ইনফান্তিনোকে একটি বিশেষ সাজে দেখা যাবে—তার হাতে রয়েছে একটি ‘রেড কার্ড হটলাইন’ টোকেন এবং পাশে রাখা ‘প্রেসিডেন্টস ফর ডামিজ’ নামক একটি বই, যার পাতায় লেখা ‘কীভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবেন’। কুশপুতুলটির সামনে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির জার্সি ও ট্রাফিক সিগন্যালসহ একটি ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। মূলত ফিফার প্রশাসনিক দুর্বলতা, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির অস্পষ্টতা এবং সভাপতির ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা লাভের অভিযোগের প্রতিবাদ হিসেবে এই ব্যঙ্গচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে।
ইডেনব্রিজ বনফায়ার সোসাইটি ১৯৯৪ সাল থেকে ঐতিহ্য মেনে বিভিন্ন আলোচিত বা বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের কুশপুতুল বানিয়ে তা পোড়ানোর প্রথা পালন করে আসছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প, লিজ ট্রাস এবং কিয়ের স্টারমারের মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তারা এমন কুশপুতুল তৈরি করেছিল। সোসাইটির সহ-সভাপতি আন্দ্রেয়া ডিনস জানিয়েছেন, এবার রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে ফিফা সভাপতির কর্মকাণ্ডকে বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বের বাইরেও সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা ফিফার এই প্রধানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তিনবারের বেশি সভাপতি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংস্থার গভর্নেন্স কমিটির প্রাক্তন প্রধান মিগুয়েল মাদুরো। তার দাবি, ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন, তাই চতুর্থবার নির্বাচনে দাঁড়ানো ফিফার নিয়মের পরিপন্থী।
সব মিলিয়ে, বিতর্কিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের জেরে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ৭ নভেম্বরের এই কুশপুতুল দাহ কর্মসূচি ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব এবং ইনফান্তিনোর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।