পকেটে থাকা স্মার্টফোন আচমকা কেঁপে ওঠে কেন জানলে অবাক হবেন

পকেটে থাকা স্মার্টফোন আচমকা কেঁপে ওঠে কেন জানলে অবাক হবেন

কল আসুক বা মেসেজ নোটিফিকেশন— পকেটে থাকা স্মার্টফোনটি হঠাৎ কেঁপে ওঠে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় হ্যাপটিক ফিডব্যাক। কিন্তু একটি পাতলা ফোনের ভেতর এই কম্পন তৈরি হয় কীভাবে? এর নেপথ্যে রয়েছে এক চমৎকার ইঞ্জিনিয়ারিং কারসাজি।

কম্পনের আসল কারিগর ছোট একটি মোটর

স্মার্টফোনের ভেতরে কম্পন তৈরির জন্য অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়। পুরনো দিনের ফোনগুলোতে মূলত ERM (Eccentric Rotating Mass) মোটর ব্যবহার করা হতো। এই মোটরের সাথে একটি আসাম ওজনের ধাতব টুকরো যুক্ত থাকে। মোটরটি ঘোরার সময় সেই আসাম ওজন ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যার ফলে পুরো ফোনটি কাঁপতে শুরু করে।

আধুনিক ফোনের এলআরএ প্রযুক্তি

বর্তমান সময়ের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনগুলোতে ব্যবহার করা হয় LRA (Linear Resonant Actuator) প্রযুক্তি। এটি আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং নির্ভুল। এতে একটি চুম্বকীয় কয়েল এবং স্প্রিং মেকানিজম থাকে যা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে আগে-পিছে মুভ করে। টাইপ করার সময় বা গেম খেলার সময় যে হালকা ধাক্কার মতো অনুভূতি হয়, তা এই প্রযুক্তিরই অবদান।

সফটওয়্যারের ম্যাজিক

ভাইব্রেশন কেবল হার্ডওয়্যারের কাজ নয়, এতে সফটওয়্যারও বড় ভূমিকা রাখে। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নির্ধারণ করে দেয় কোন নোটিফিকেশনে কেমন কম্পন হবে। যেমন, ফোনের রিংটোনের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পন হওয়া বা মেসেজ এলে ছোট একটি ঝটকা দেওয়া— এই সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে আধুনিক কোডিং।

কেন এই প্রযুক্তি জরুরি?

ভাইব্রেশন কেবল সাইলেন্ট মোডে কাজে লাগে তা নয়, এটি অ্যাক্সেসিবিলিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যারা কানে কম শোনেন, তাদের জন্য এই কম্পনই সংকেত হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ভার্চুয়াল কিবোর্ডে টাইপ করার সময় আসল বাটন টেপার অনুভূতি দিতেও এই হ্যাপটিক টেকনোলজি অপরিহার্য। পরবর্তীবার ফোন ভাইব্রেট করলে মনে রাখবেন, আপনার হাতের তালুর নিচে কাজ করছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম এক আধুনিক বিজ্ঞান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *