তৃণমূলের বড় রদবদল: রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা, ডানা ছাঁটা হলো অভিষেকের!

তৃণমূলের বড় চমক, রাজ্য সভাপতি পদে চন্দ্রিমা ও অভিষেকের ডানা ছাঁটার ইঙ্গিত
অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর দলের এই নতুন কাঠামো ঘোষণা করা হয়, যেখানে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ। সাংগঠনিক বিন্যাসে এই পরিবর্তনকে দলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের কৌশল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও নতুন সমীকরণ
নতুন ঘোষিত এই তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক ক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে সহায়তার জন্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তরে সহ-সভাপতি হিসেবে সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করা হয়েছে।
বিদ্রোহ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা
দলের এই রদবদলে কেবল রাজ্য কমিটি নয়, শাখা সংগঠনগুলোতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুব তৃণমূলের নেতৃত্বে সায়নী ঘোষ এবং ছাত্র পরিষদের দায়িত্বে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে বহাল রাখা হয়েছে। আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি পদে মলয় ঘটককে বসানো এবং মদন মিত্রকে হকার উইংয়ের দায়িত্ব দেওয়া মূলত সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করারই প্রয়াস। দলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও বিভেদ প্রশমন করে আসন্ন জাতীয় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই কৌশল গ্রহণ করেছে ঘাসফুল শিবির। এই রদবদল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে হৃত রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।