তেহরানে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ, বাজছে যুদ্ধের সাইরেন ইসরায়েলি হানায় কাঁপছে গোটা ইরান

নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি সংঘাতের আগুন। শনিবার ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী তেহরান। একের পর এক মিসাইল হামলায় আকাশ লাল হয়ে ওঠে, আর সেই সঙ্গে গোটা দেশজুড়ে বাজতে শুরু করে যুদ্ধের সাইরেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে ইরান সরকার তড়িঘড়ি সারা দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন সাধারণ মানুষ।
প্রাথমিক সংবাদসূত্র অনুযায়ী, তেহরানের কৌশলগত এলাকাগুলোতে অন্তত তিন থেকে চারটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বহুতল ভবনগুলো। তবে এই আকস্মিক হানায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটা, তা এখনও স্পষ্ট করেনি ইরান প্রশাসন। তেল আবিব থেকে সরাসরি দায় স্বীকার করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের দিক থেকে আসা ‘হুমকি’ চিরতরে নির্মূল করতেই এই সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। পালটা হামলার আশঙ্কায় খোদ ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পর্দার আড়ালে কি ওয়াশিংটন
কূটনৈতিক মহলে এই হামলা নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইসরায়েল একক সিদ্ধান্তে এই হামলা চালায়নি। বরং পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ইরানের অনমনীয় জেদ ভাঙতে খোদ আমেরিকার সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই অভিযান শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পরমাণু গবেষণাকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংঘাত চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইরান নমনীয় না হলে তার ফল হবে মারাত্মক। সেই চরম হুঁশিয়ারিই কি এবার বাস্তবায়িত হলো?
আলোচনার মাঝেই রণদামামা
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংঘর্ষ এড়াতে সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা পর্দার আড়ালে বৈঠক হয়েছিল। এমনকি চলতি সপ্তাহেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের মুখোমুখি বসার কথা ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের। কিন্তু আলোচনার টেবিলের বদলে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানেই যেন ফয়সালা করতে চাইছে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। ইরানকে আক্ষরিক অর্থেই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশ্বযুদ্ধের ছায়া দেখছেন কূটনীতিবিদরা। তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর বিশ্ববাসীর।